আমি ছোটবেলায় মাদ্রাসায় পড়েছি। একারণে একটু কড়া শাসনে মানুষ হতে হয়েছে। অবশ্য এর জন্য কোন আক্ষেপ নেই আমার। কেননা, এটাই প্রয়োজন ছিল সেসময়। তানাহলে, পড়ালেখার কপালে দূর্গতি ছিল। ঘটনাতো তাই বলে।
যাহোক, এ কড়া শাসনের মধ্যে থেকে সিনেমা দেখাটা অসাধ্য-সাধনের মত ছিল। তবুও, মায়ের চোখ ফাকি দিয়ে দেখতাম মাঝেমধ্যে। ধরা খেলে মারপিটও হত একটু-আধটু। এটাতেও এখন আক্ষেপ হয় না। কেননা, মানুষ হওয়ার জন্য মায়ের এ শাসন বহু কাজে দিয়েছে আমার।
এরপর যখন বড় হতে শুরু করলাম, বুঝতে শিখলাম তখন থেকে বাবা-মা আমার কাজে হস্তক্ষেপ তুলে নিতে শুরু করলেন। এটাও ভাল। কারণ, আমি একটু বইপাগলা ছিলাম। বই কিনতে টাকা চাইলে কখনো না বলত না। তারা জানত আমি এর বাইরে খুবই কম খরচ করি। শুধু বই কিনতেই টাকা উড়াই। আমার বন্ধু-বান্ধবও কম ছিল সেসময়।
এরপর আলিম/এইচএসসি পাশ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় মুখি হওয়ার পালা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শুয়ে বসে দিন কাটতে লাগল। এ সময়টাতে মূলত সিনেমা কেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা কাজ করতে থাকে মাথায়। বই পড়ুয়া হওয়ায় এ বিষয়ে যা পাওয়া যায় কিনে পড়া শুরু করলাম। আর সিনেমাতো টুকটাক দেখতামই।
যতই পড়ি ততই অবাক হই। একটা মাধ্যম কিভাবে মানুষের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। কিন্তু, খারাপ লাগা কাজ করতে লাগল বাংলা সিনেমার চেহারা-সুরুত দেখে। সেই লুমিয়ের আমলের চিন্তা- ভাবনা। অন্যদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি যখন নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহন করে নতুনত্ব এনে বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সে সময়ে বাংলাদেশের পরিচালকেরা কালচিন্তা না করে ৩৫ মিমিতে সিনেমা বানানোতে ব্যস্ত।
আসলে, সিনেমা হচ্ছে আধুনিক কালের আবিষ্কার। এখানে কাজ করতে হলে আধুনিক মনস্ক হতে হবে। প্রগতিশীল (সামনে অগ্রসরমান) চিন্তা করতে হবে। পিছন ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। পিছনে তাকালে শুধু নিজে নই, পুরো একটা ইন্ডাস্ট্রি ধসে যাবে।
সিনেমার কাহিনী, ঘটনা, চিত্রপট এককথায় সিনেমা সংশ্লিষ্ট সব কিছুতে সর্বদা পরিবর্তন আনতে হয়। সময়ে সব কিছুতে পরিবর্তন হয়। সার্বিকভাবে এখনকার মানুষের সাথে ১০০ বছর আগের মানুষের চিন্তার কোন মিল খুজে পাবেন না।
আমরা সর্বদা এক মহা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যে এই পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারে না, তার জীবন জড় পদার্থের ন্যায় স্থবির।
সিনেমার বহু রকমফের। আর এর দর্শকও নানান শ্রেনীর। কাজেই এক ঘরানার সিনেমা দিয়ে একটা ইন্ডাস্ট্রি টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। সিনেমার যত জেনেরি-সাবজেনরি রয়েছে সব গুলোতে পদচারনা থাকতে হবে। একটা জেনরি দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি হয় না।
ইন্ডিয়া চলচ্চিত্রে এটা করতে পেরেছে বলে তারা বলিউডের মত বিশ্বখ্যাত ইন্ডাস্ট্রি গড়তে পেরেছে।
আমার জানা মতে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ চলচ্চিত্রই এক-দুই ঘরানার। রোমান্টিক আর কিছু এ্যাকশন। বেশিরভাগই এ দুটোর মিশ্রণে গড়া।
বাস্তব কাহিনী নিয়ে তো কত শত সিনেমা বানানো যায়। কই দেখিনাতো। বলিউড সর্বজিৎ বানাতে পারে। আর আমরা ফেলানির মত সত্য ঘটনাকে দেখতে পায়না। আফসোস!
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।