সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ব্লগ এবং ব্লগার মানে কি?

গত কিছু দিন আগে, আমি যখন গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বাড়ি আসি। তখন আমি এক রাতে বাজারে ঘুরতে বাহির হয়।
ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ মনে হল যে, যাই বন্ধুর বাসা থেকে ঘুরে আসি।
যেই কথা সেই কাজ। বন্ধুর বাড়ি ছিল বাজার থেকে অল্প দূরেই।
যাইহোক, গেলাম। গিয়ে মনে পড়ল, আমার ব্লগের পোস্টার তৈরির কথা।
তো বন্ধুকে বললাম, দোস্ত কাগজ,কলম দে?

কাগজ, কলম নিয়ে যখন লেখা শুরু করলাম তখন বিষয়টা উঠে আসল।
আমি যখন ব্লগের ঠিকানা দুটো লিখলাম

ব্লগার।
তখন ও আমাকে বলল, কিরে এ সব কি শুরু করলি?
আমি বললাম, কি?
বলল, তুই কি নাস্তিক হয়ে গেলি?
আমি বললাম, মানে?
বলল, ব্লগে লিখিস? আমি বললাম, হ্যা! কেন? কোন সমস্যা?
ও আমাকে বলল, এই সব বাদ দিয়ে ভালো হয়ে যা!

তখন আমি ওকে বললাম, আচ্ছা তুই বল দেখি ব্লগার মানে কি? ও আমার প্রশ্নের যে জবাব দেয় তা নিতান্তই হাস্যকর!বটে।
ও বলল যে, ব্লগার মানে নাকি “নাস্তিক”।
আমার প্রচন্ড হাসি পাচ্ছিল। তারপরও, নিজেকে এই বলে সংবরণ করলাম যে, “ও যে জানে না, সেটা ও নিজেই জানে না।”
এটাই আমাদের বড় সমস্যা “আমরা যে ‘জানি না’, ‘সেটাই’ আমরা জানি না।”

তারপর আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুই এটা কিভাবে, কোথা থেকে জানলি?
বলল, কেন’ মাহফিলে হুজুরিরা বলে যে, নাস্তিক ব্লগার।
ভাবলাম, মানুষ আসলে কিভাবে বিপথগামী হচ্ছে, জ্ঞানের পথ থেকে মানুষকে কিভাবে কনভার্ট করে ভিন্নপথে পরিচালিত করা হচ্ছে।

তবে খুব বেশি চিন্তিত নই। কারন, বর্তমানে মানুষ ব্যক্তিস্বাধীনতা ভোগ করছে অতিমাত্রায়। এ কারনে মানুষকে ভূগোল বোঝানোর সুযোগটা খুবই কম।

কিছু মানুষ আছে যারা সময়ের সাথে, সভ্যতার সাথে চলতে না পেরে বিভিন্ন অবাস্তব কার্যকলাপ, উদ্ভট আচার-আচরন সংঘটন করে।

এ ধরনের মানুষ অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এদের নিয়ে ভাবলে নিজের জীবনের বরাদ্ধকৃত সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না। এটা করা এক ধরনের মস্ত বোকামির সামিল। এ ধরেনর মানুষ গোড়ামী ধরনের। যা একটি সামাজিক ব্যধি।

সভ্যতা তার আপন গতিতে এগিয়ে চলবে, এটাই বাস্তব। আপনি তার সাথে না চললেও তার কোন যায়-আসে না।

যাইহোক, এরপর বন্ধুকে ব্লগ এবং ব্লগার কি?
তা বুঝিয়ে বাড়ি আসলাম।

আসুন এখন দেখি, ব্লগ এবং ব্লগার কি জিনিস?

*আভিধানিক অর্থেঃ
-ব্লগ ইংরেজি blog শব্দের বাংলা। এটি noun এবং verb দুভাবেই ব্যবহৃত হয়।
-Derivatives- blogging, blogger (দুটোই noun).

-যার অর্থ- অনলাইনে ব্যক্তিগত মতামত বা ব্যক্তিগত দিনপঞ্জী।

*পারিভাষিক সজ্ঞাঃ
-সাধারনত ব্লগ বলতে বোঝানো হয়, ‘ইন্টারনেটে কোন ব্যক্তি কতৃক প্রচারিত ব্যক্তিগত মতামত, ব্যক্তিগত দিনপত্রী ইত্যাদি উপস্থাপন করা।’

-Samsad Dictionary (fifth edition)-এ Blog এর সজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘noting, recording or logging in meterial, usu. personal dairy, spontaneous jottings, etc. on the Internet for free and wide sharing.’

-Cambridge advanced Learner’s Dictionary (third edition)-এ Blog এর সজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘(Also WEBLOG) a dairy (=regular record of your thoughts, opinions and experiences) that you put on the internet for other people to read.'(n)
‘to write or add material to a blog.’ (v)

*ব্লগারের সজ্ঞাঃ
ইংরেজিতে এটার রুপ- Blogger.
-সাধারনত,’যিনি অনলাইনে ব্যক্তিগত মতামত, ব্যক্তিগত দিনপত্রী তুলে ধরেন, তাকে ব্লগার বলা হয়।’
-এক কথায়, ‘যিনি ব্লগে লেখালেখি করেন, তাকে ব্লগার বলা হয়।’
-Cambridge Advanced Learner’s Dictionary ( third edition)-এ Blogger এর সজ্ঞায় বলা হয়, ‘someone who writes a blog.’ (c.n)

ব্লগ এবং ব্লগার অনেক ধরনের হতে পারে। বর্তমান সময়ে ব্লগারগন বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত ছাড়াও, উপকারি অনেক তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করেন ব্লগে।
যেমনঃ ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, অর্থনৈতিক, পরিবেশ, বিজ্ঞানসহ সব কিছু সম্পর্কে।

অনেকের এটার ব্যাপারে ভ্রান্ত-ধারনা কাজ করে।তাদের বলব যে, দেখুন ব্লগ কোন খারাপ জিনিস না। মুষ্টিমেয় কিছু ব্লগ লেখক এটাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে।

ব্লগ একটি মাধ্যম মাত্র। এটাকে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাই মূল বিষয়।
ঠিক যেমন, একই ক্ষেতে ধানও চাষ করা হয়, আবার গমও চাষ করা হয়, আবার ঐ ক্ষেতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফসলও চাষ করা হয়।
দক্ষ কৃষক সেখানে ভাল ফসল ফলান। আর অদক্ষের কারনে সেখানে যাচ্ছেতায় অবস্থার সৃষ্টি হয়।
আবার অনাবাদি করে ফেলে রাখা হয়। ফলে সেখানে আগাছা জন্মাই।
এ সত্য তো উপলব্ধির ব্যাপার।

কাজেই আসুন, এ ধরনের ভ্রান্ত ধারনার খোলোস থেকে বাহির হয়ে প্রত্যেকটা জিনিসের ভালো-মন্দ দুটো দিক সম্পর্কে জানি এবং খারাপ দিকটা বর্জন করে, সেটাকে সৎ পথে ব্যবহার করার কাজে নিয়োজিত হয়।