আমাদের গ্রামের নাম বেড়বাড়ী। আমাদের গ্রামের নামকরণের পেছনে রয়েছে ছোট একটি কাহিনী। আমাদের গ্রামে রয়েছে অনেক বড় বড় বেড়। আর এই বেড় দেখাশোনা করার জন্য প্রত্যেক বেড়ের উপর একটি করে বাড়ি নির্মান করা হত। এই বেড় আর বাড়ি নিয়ে আমাদের ছোট গ্রাম বেড়বাড়ী।
আমাদের গ্রামে মোট লোক সংখ্যা ১৪/১৫ শত। এর মধ্যে ভোটার সংখ্যা ৪৮০ জন।
শিক্ষিতের হার অনেক কম হলেও নিরক্ষর লোক বেশি নয়। আমাদের গ্রামে চাকরীজীবী মানুষের সংখ্যাও কম। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র বর্তমান পর্যন্ত ২ জন। তবে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা মোটামুটি।
বাল্যবিয়ের হার অত্যন্ত বেশি হওয়ায় নারী শিক্ষার হার অনেক কম। তবে মেয়েদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় বর্তমানে কয়েকজন কলেজ লেভেলে পড়ালেখা করতে সক্ষম হয়েছে। নারী শিক্ষার অবনতির প্রধান কারণ এখানকার মানুষের মন-মানসিকতা ও দারিদ্রতা। আবার, এগুলোর কারণ সু-শিক্ষার অভাব। এই বৃত্ত ভেঙ্গে দিতে হবে।
আমাদের গ্রামে দারিদ্র্য লোকের সংখ্যা বেশি। বেশির ভাগ মানুষ দিনমজুর ও চাষী। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক প্রভৃতিসহ ঢাকায় কিছু লোক গার্মেন্টসে কাজ করে।
আমাদের গ্রামের মানুষের ঘর-বাড়ি সাধারনত মাটির তৈরি খোলার ঘর। তবে, কিছু পাঁকা ঘর তৈরি হয়েছে ইদানিং। বর্তমান সময়ে আবার নতুন ধাচের ঘর ইটের তৈরি-খোলার চাল বা টিনের চাল দেখা যাচ্ছে বেশি।
এখানে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয় ২০০৬ সালে। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ দারিদ্র্য হলেও শতকরা ৯৯.৫০ ভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।
এখানকার মানুষের বিনোদনের প্রধান উপকরণ খেলাধুলা, টেলিভিশন, ডিশ ইত্যাদি। ফুটবল খেলা, ক্রিকেট খেলা, তাস, দাড়িয়ান্ধা, ঘোড়াছুট, মাছমারা এগুলো অবসর কাটানোর উপায়। তাছাড়া টিভিতে নাটক-সিনেমা দেখতে এখানকার মানুষ অত্যন্ত পছন্দ করে। একসময় ছিল ভিসিআর ভাড়া করে দল বেঁধে সিনেমা দেখত মানুষ। ইন্ডিয়ান বাংলা সিনেমার প্রতি ঝোঁকটা একটু বেশি থাকলেও দেশি সিনেমা কম দেখা হয়না। এর পাশাপশি বলিউডি খানদের সিনেমা খুবই পছন্দ করে এখানকার মানুষ। আর হলিউডি ব্লকবাস্টার সিনেমা দেখে, তবে একটু কম।
আমাদের গ্রামের মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়, আরামপ্রিয়। এখানে ধর্মপ্রিয় মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তবে তারা উদারপন্থী ইসলামে বিশ্বাসী। চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয়া লোকের সংখ্যা নিতান্তই কম। ধর্মীয় সামাজিক কর্মকান্ডগুলো সবাই মিলেমিশে পালন করে থাকে। একটি মসজিদ ও একটি ইদগাহ রয়েছে। প্রতিবছর ইদগাহে মাহফিল হয়। কুরবানী ইদের সময় ইদগাহে ৭/৮ টি গরু ও ৩/৪ টি ছাগল জবাই হয়।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।