সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হল ব্যবস্থাপনা

চলচ্চিত্র শুধু তৈরি করার জিনিস নয়। এটি প্রদর্শনেরও একটি বিষয়। আর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট যায়গার প্রয়োজন হয়।

এজন্য হল তৈরি করার আগে এমন যায়গা নির্বাচন করা উচিৎ, যেখানে সবার জন্য পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। কারন, দর্শক একধরনের হয় না। নানান ধরনের দর্শকের আগমন ঘটে।

শুধু সিনেমা তৈরি করে বললাম দর্শক বাংলাদেশের সিনেমা দেখে না।
তাতো হয় না!
আগে দেখার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তারপরে না দেখবে।

সিনেমা আধুনিক সভ্যতার একটি উন্নত আবিষ্কার। এটি পুরোপুরিভাবে শহর কেন্দ্রিক প্রযুক্তিময়-শিল্প। একারনে হলগুলো সাধারনত শহরে গড়ে ওঠে। আর শহরের এমন যায়গায় এগুলো গড়ে তুলতে হয় যেখানে মানুষের সমাগম ঘটে বেশি।

প্রযুক্তির কল্যানে সবকিছুতে খুব দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। আর সিনেমার ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি সত্য। কেননা, সিনেমা পুরোপুরিই প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প। মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা হল নিত্য-নতুন জিনিসের প্রতি আকর্ষন। আর এজন্যই সিনেমায় যত নতুন বিষয়, নতুন ফিচার ঢোকানো যাবে ততই মানুষ এটাকে সাদরে গ্রহন করবে।

এটি যেহেতু একই সাথে ব্যবস্থাপনা ও সেবার সাথে জড়িত।
কাজেই, ২য় দিকটার জন্য হলের অভ্যন্তরীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করা, শৃংখলা যাতে বিঘ্নিত না হয় সে দিকে কড়া নজদারির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

আর ব্যবস্থাপনার সাথে ব্যবসায়ের যোগসুত্র। কাজেই, ব্যবস্থাপনা সঠিক হালাতে করার জন্য এর ব্যবসায়িক দিকগুলো খুজে বাহির করে তাতে পেশাদারিত্বের ছাপ লাগিয়ে দিতে হবে। যাতে এর সাথে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারে।

এগুলোর রক্ষনাবেক্ষন করার দায়িত্ব হল সিনেমার সাথে সংশ্লিষ্ট উপর থেকে নিচ তলার সবার।
দেখা যায়, সিনেমায় কিছুদিন কাজ করে টাকা পয়সা কামিয়ে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে সেদিকেই ঝুকে যায় (ব্যবসা করা ব্যক্তিগত ব্যাপার, ব্যবসা করতেই পারে)। সিনেমার উন্নয়নে অন্তত কিছু করা উচিত।

যারা সিনেমার সাথে জড়িত তারা যদি তার নিজস্ব এলাকায় বা আশ পাশের এলাকায় একটি করে সিনেপ্লেক্স, সিনেম্যাক্স, থ্রিডি হল স্থাপন করে। তাহলে আমার মনে হয়, নিজেদের একটা ব্যবসায়ের প্লাটফর্ম তৈরি হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসায়িক চলচ্চিত্রের যে দৈন্যদশা তা আর থাকত না।

আবার নতুন রুপ খুজে পাবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র।
সেই প্রত্যাশায়!

ধন্যবাদ!