সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অসহিষ্ণুতা

আজব দুনিয়ার আজব প্রানী কি? অনেকে অনেক কিছু বলবে! কিন্তু, আসল কাহিনী এই জগতে মানুষই একমাত্র আজব প্রানী। যার আচারণের মধ্যে বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়।
এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পরমতের প্রতি অসিষ্ণুতা।

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষের সাথে কথা বলার সময় দেখা যায়, আপনি একটি কথা বা মত প্রকাশ করলেন, সে আপনার কথার কোন প্রকার সম্মান বা গুরুত্ব না দিয়ে, সে নিজেের কথা বা মতকে অকাট্য মনে করে, সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে-পড়ে লেগে যায়।
সেটা সঠিক বা বেঠিক যাই হোক না কেন!

এ ধরনের মানুষের সাথে কথা বা কাজ কোনটিই সঠিকভাবে করা যায় না।

এই যে অসহিষ্ণুতার নীতি এটা পরিত্যাগ করতে না পারলে, এটার যে বিরুপ প্রভাব, সেটা শুধুমাত্র ব্যক্তির ক্ষতি করে না, এটা সামগ্রিকভাবে আশপাশের অনেকের ক্ষতির কারন হয়ে থাকে।

দেখা যায়, সবার মত থাকে। তাই বলে নিজের মতটাই সঠিক এটা ভাবার কোন যৌক্তিকতা নেই। কারন, আপনার থেকে অন্যের মতামত আরো বাস্তব এবং যুক্তিসঙ্গত হতেই পারে।

এই অসহিষ্ণুতার নীতি সমাজকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কারন, এটা সত্যকে অস্বীকার করে অবাস্তব এবং যুক্তিহীনতাকেই প্রতিষ্ঠিত করে।

আর এটা সমাজ জীবনে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে।
যেকোন সামাজিক বিষয় সমাধানের ক্ষেত্রে এই অসহিষ্ণুনীতির মানুষ বাধা-বিপত্তি ডেকে আনে। কোন ভাবে এদের জন্য বিষয়ের সমাধানে পৌছানো যায় না।

পারিবারিক ক্ষেত্রে আরও বেশি বিপত্তি ঘটায় এটা।
সাধারণত দেখা যায়, পরিবার একটি স্পর্শকাতর ক্ষেত্র। পরিবারে, একজনের একটি অবাস্তব, অযৌক্তিক মত পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
দেখা যায়, একটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় বেশি। একটা সময় উভয়ই অসহিষ্ণু হয়ে উঠে।
আর এর কবলে পড়ে গোটা পরিবার, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন-যাপন করতে দেখা যায়।

আর শিক্ষিত সমাজেও এটা ভাইরাসের মত আক্রান্ত। শিক্ষিত সমাজের লোকের একাংশ শিক্ষাকে পুঁজি করে সাধারন মানুষকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে থাকে। সেটা সঠিক-বেঠিক যাই হোক!
কিন্তু, শিক্ষার মৌল বিষয় হচ্ছে মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেয়া।

শিক্ষিত সমাজেও দেখা যায় অন্যের কথা এবং মতামতকে অসম্মান এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে।
শিক্ষিত সমাজের ভেতরে এই অসহিষ্ণুতা গোটা জাতিকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। ধ্বংস অনিবার্য হয়ে উঠে।

কাজেই, আমাদের উচিত অসহিষ্ণুতার নীতি পরিত্যাগ করে পারিবারিক, সামাজিক এবং জাতীয় জীবনে শান্তি-প্রগতির পথে ধাবিত হওয়া।