চায়ের দোকান-যেখানে চা খাওয়ার বিনিময়ে সিনেমা দেখা যায়। দারুন একটি বিষয়! এখানে থাকে একটি বড় মাপের টেলিভিশন। সিডি, ডিভিডি অথবা ডিশ হলো সিনেমার প্রধান উৎস। ২/৩ টাকা দামের যাচ্ছেতাই টাইপের চায়ের বিনিময়ে এখানে বসে টিভি দেখতে হয়। এখানে চায়ের পাশাপাশি বিড়ি-সিগারেট, কলা, বিস্কুট, কেক ও পান পাওয়া যায়। তবে, এগুলো ঐচ্ছিক। চা খাওয়াটা বাধ্যতামূলক। চা না খেলে বসতে পারবেন না এখানে। বাকির একটা ব্যাপার দেখা যায় মাঝে-মধ্যে। যদিও, ২/৩ টাকার মামলা।
আমাদের ধুলিহর বাজারে কয়েক বছরের মধ্যে বাজারের অলিতে-গলিতে বহু চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। এ চায়ের দোকানের নাম সাধারনত যে চা তৈরি করে তার নাম অনুসারে নামকরন ঘটে যায় মানুষের মূখে মূখে।
খোশ গল্প করার একটি দারুন যায়গা। রাজনীতি থেকে শুরু করে সব রকমের আলোচনা হয় এখানে। যেসকল চায়ের দোকানে টিভি নেই সেখানে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগণ বিভিন্ন বিষয়ে খোশ গল্প করতে হাজির হয় এখানে। আগেকার দিনে বাড়ির সামনে দলুজ ঘর হত খোশ গল্প করার যায়গা। আর এখনকার দিনে সে যায়গা দখল করে নিয়েছে এই চায়ের দোকান।
একজন চা দোকানদার দিনে ১৫০/২০০ কাপ চা বিক্রি করে তার আয় হয় ৪০০-৭০০ টাকা। বেশিও হয়।
বাজারে বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার সস্পর্কের কারো সাথে দেখা হলে সৌজন্যতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপর্ণ মাধ্যম এই চা এবং চায়ের দোকান।
মাঝে মধ্যে মনে হয় এটা মানুষের গ্যারেজ। নানান ধরনের মানুষের আনাগোনা ঘটে এখানে।
টিভিওয়ালা চায়ের দোকানের খরিদ্দার বেশিরভাগ ভ্যান-চালক, খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেনীর লোক। একটু উপরের তলার লোক টিভিহীন খোশ গল্প করা যায় এমন চায়ের দোকানে বসে। অবসর সময় কাটানোর মোক্ষম যায়গা এটি।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।