সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সভ্যতার খড়ি

১.
সভ্যতা তার আপন গতিতে এগিয়ে চলে।
কারো জন্য সে দাড়িয়ে থাকে না।
আপনি একটু চিন্তা করে দেখুন, এখান থেকে হাজার হাজার বছর আগে মানুষ কোথায় ছিল।
আদিম পাহাড়বাসী থেকে মানুষ আজ সুউচ্চ অট্টালিকাবাসী।
আজকে ভাবতেই অবাক লাগে যে মানুষ এক সময় পাহাড়-পর্বতে বসবাস করত।
সেখান থেকে মানুষ ধীরে ধীরে আজকের অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে।
সেই আদিম পাহাড়বাসী মানুষটি কি আজকের এই অট্টালিকা, প্রযুক্তিময় সভ্যতার কথা কখনো ভেবে দেখেছিল।
আমার তো মনে হয়, ভেবে দেখা দূরে থাক সভ্যতা কি জিনিস সেটাই তাদের পক্ষে কল্পনা করা দূসাধ্য ও অকল্পনীয় ব্যাপার।

কারন, তখন সবাই নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখাই বড় মনে করত।
যেখানে নিজের অস্তিত্বের সঙ্কট সেখানে এগুলো কাজ করে না।
অস্তিত্বসঙ্কটময় পরিবেশে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখাটাই বড় জ্ঞান মনে করা হত।

বর্তমান সভ্যতার মানুষও কোন না কোনভাবে নিজের অস্তিত্বের প্রমান রাখার জন্য চেষ্টা করে।
সেটা যেকোন উপায়ে হয়ে থাকে। সত্য-মিথ্যা যাই হোক। এ সময় ন্যায়-অন্যায়বোধও অনেক সময় কাজ নাও করতে পারে।

যাইহোক, সেই আদিম গোহাবাসী মানুষ ধীরে ধীরে সভ্যতার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করল।
সে তার প্রয়োজনে অনেক কিছু আবিষ্কার করতে শুরু করল।
এখান থেকেই আজকের সভ্যতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

আস্তে আস্তে মানুষ আবিষ্কারের নেশা মেতে ওঠে।

প্রাথমিক অবস্থায় মানুষ ছিল যাযাবর।
তারা যেখানে যেত সেখানেই তারা বসবাসের জন্য স্বল্পকালীন বাসস্থান তৈরি করত। এটাই ছিল মানুষের প্রথম আবিষ্কার।

এরপর মানুষের ২য় আবিষ্কার হচ্ছে বস্ত্র। প্রথম অবস্থায় মানুষ তার শিকারকৃত পশুর চামড়া, গাছের ছাল-বাকল দিয়ে লজ্জা নিবারন করত। আর এ সময় থেকে লজ্জা নামক বস্তুটির যাত্রা শুরু হয়।

হাতিয়ার আবিষ্কার ছিল মানুষের প্রথম যুগের সবচাইতে বিষ্ময়কর আবিষ্কার। এই হাতিয়ার আবিষ্কারের মাধ্যেমে সভ্যতা অনেক দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করে।
মানুষ হাতিয়ার হিসেবে সে সময় বিভিন্ন রকমের জিনিস ব্যবহার করত।
তার মধ্যে পাথর ও গাছের ডাল বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে ব্যবহার করত।

পুরনো যুগের মানুষের প্রধান আবিষ্কার আগুন। প্রথম দিকে মানুষ আগুন তৈরি করতে জানত না।
বাহির থেকে আগুন সংগ্রহ করে, তা গুহার মধ্যে জালিয়ে রাখত।
অনেক পরে মানুষ আগুন তৈরির কৌশল আবিষ্কার করে।

বাঁচার তাগিদে মানুষ প্রথম যুগ থেকেই সমাজদ্ধ হয়ে বসবাস শুরু করে।

সে সময় মানুষের খাদ্য সংগ্রহের ধারা দুর্বল থাকায় তারা প্রাত্যহিক জীবন-মৃত্যুর পর অনেক ধরনের যাদুক্রিয়ায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। এখান থেকে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের সৃষ্টি হতে শুরু করে।

শিল্পকলাও সে সময় মানুষ অনেক এগিয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। শিল্পকলার মধ্যে চিত্রকলা সবচেয়ে বেশি এগিয়েছিল।

এই সময়টাতে মানুষ সভ্যতার পথে মন্থর গতিতে অগ্রসর হয়েছিল।
এর পরবর্তী সময়ে কতকগুলো আবিষ্কার ও অভিনবত্বের কারনে মানুষ সভ্যতার পথে দ্রুত ধাবিত হতে থাকে।