সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিনে ভাবনা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এখনও অনেক মানুষ সিনেমাকে অভিশাপ বা খারাপ জগত মনে করে।
ঠিক আছে, ভালো-মন্দ তো সব জগতেই থাকে। এখন আপনি যে কোন বিষয়কে পুরোপুরি খারাপ ভাবতে পারবেন না। এ কারনে যে, পৃথিবীতে সৎ লোকের বাসও থাকবে, আবার অসৎ লোকেরও বিচরন দেখা যাবে।
কিন্তু বিষয়টা হল যে, ভালো লোক যদি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, তখন তো খারাপ লোক দাপাদাপি করে বেড়াবেই। ঠিক যেমনটা, যদি কোন ক্ষেতে দীর্ঘদিন যাবৎ চাষ-বাস না করা হয় তো সেখানে আগাছা জন্ম নেবেই। এ সত্য তো উপলব্ধির ব্যাপার।

আর সিনেমার ক্ষেত্রে যতটুকু খারাপ বিষয় উঠে আসে তা আমার মনে হয়, ঐ জগতকে ভালোভাবে ব্যবহার করার মত লোকের অভাবেই।

এখন আপনি বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলতে পারেন, এটা ব্যান করে দেওয়া উচিত, এই সেই, আরো কত কি! কিন্তু, বাস্তবতা হল, প্রচলিত কোন বিষয়কে বন্ধ করা যায় না। সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রন করা যায়, তাও কঠিন হিসাব করে।

সময় যা বলে, এটা বন্ধ করেও কি, আর না করেও কি। মানুষ সিনেমা দেখত এবং দেখবে। না জেনে না বুঝে অল্প কিছু লোক, নিজেদের এটা থেকে বঞ্চিত রাখে সবসময়। সময় তার আপন গতিতে চলবে। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ এবং ইন্টারনেট। এগুলো কি আর উধাও করা যাবে? -যাবে না। হয়তোবা সিনেমা তৈরি এখানে বন্ধ করে দিলেন। কিন্তু, হাতের মোবাইল-ল্যাপটপ, ইন্টারনেট এগুলো তো থাকবেই, নাকি?

আর আমার দেখা মতে, যারা এটাকে বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করে। তারা এটা সম্পর্কে, এটার পাওয়ার সম্পর্কে জানেই না কিছু, এটা বললেও অতুক্তি হবে না।

আবার এক শ্রেনীর মাতাল মার্কা সিনে দর্শক আছে, যারা এটাকে বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করে। অথচ সিনেমা ছাড়া তাদের রাত কাটে না। এদের সমস্যা হল, কি বলে, আর কি করে, নিজেই ঠিক পায় না।

হয়েছে কি, আমি আসলে একটু সিনেমা নিয়ে চিন্তা -ভাবনা করি। তো যাই হোক, আমি একদিন বাজার দিয়ে যাচ্ছি তো আমার এক স্বহৃদয়বান বন্ধু আমাকে ডেকে বলল,
দোস্ত-
আমি বললাম-বল দোস্ত,
ও বলল-শুনলাম তুই নাকি সিনেমা বানাবি।
আমি বললাম-হ্যা। কেনো? কোন সমস্যা?
ও বলল-এটাতো হারাম কাজ, খারাপ কাজ।
আমি ওর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বললাম দেখি তোর মোবাইল।
ও বলল-কেন?
আমি বললাম-তেমন কিছু না!
ও দিতে যেন একটু ইতস্ততবোধ করছিল।
আমি বললাম- কি হল? দে!
দিলো!
দেখলাম-কিছু হিন্দি, কিছু ইংলিশ সিনেমা। আর কিছু ভিডিও গান, তাও হিন্দি-ইংলিশ।
ভাবলাম-দেশপ্রেমের ঘাটতি আছে! পরে শুনি অন্য রকম!
আমি বললাম-একি?
তখন পথ না পেয়ে বলে দিল-দেখায় দোষ কম,
করাটাই মহাপাপ।
তাও এমনভাবে বলল, যেন সে পাপের ক্ষমা তো দূরে থাক! প্রায়শ্চিত্ত করারও কোন সুযোগ নাই।
আমি মোবাইলটা ঘাটতে ঘাটতে বললাম, এসব তো বেশিই খোলামেলা।
হঠাৎ ওর দিকে তাকিয়ে দেখি! ও অসাড় হয়ে যাচ্ছে!
পরেই বুঝেছিলাম কারনটা কি!
মোবইলটা কিছুক্ষন ঘাটাঘাটির পর যা দেখলাম, তা আর বলতে পারবনা।
শেষমেশ দেখি পরিবেশ কেমন হয়ে গেল, ও আর কথায় বলতে পারছে না।
আমি প্রসঙ্গ এড়িয়ে কিছুক্ষন পর চলে এলাম।
তো যাই হোক, এ হল আমাদের নৈতিক চরিত্র। বলি এক, করি আর এক (বুঝে, না বুঝে)।

আসলে মানুষ যখন অতিমাত্রায় আনুষ্ঠানিক হয়ে ওঠে, তখন তার নৈতিকবোধ কমে যায়, দলকানায় পরিনত হয়, বিবেকহীনতার পরিচয় দেয়, গোড়ামী করে, সৎচিন্তা উঠে যায়।
ভালো-মন্দ বিচার না করেই কথা বলে, কাজ করে।

সত্য বলতে গেলেও দোষ, কি যে করি?