মানুষ হিসাবে সবচাইতে বড় যে জিনিসটা আপনাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে তা হচ্ছে ‘আপনার বিবেক’। আর এই ‘বিবেক’ নামক বিষয়কে কেন্দ্র করে মনুষ্য সভ্যতার ‘ভিত্তি’ গঠিত। এই ‘বিবেক’ নামক বস্তুটির আবার জীবন এবং মরন রয়েছে। আপনি আপনার চারপাশে একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, আপনার চির পরিচিত মানুষটি ছোট-ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে কিভাবে বিবেকহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা এতটাই কমে গেছে যে, মুখের সামনে যা আসে তাই বলে দেয়। ‘বিবেক’ নামক শ্রেষ্ঠ বস্তুটিকে কাজে লাগানোর মত দক্ষতা তৈরি হওয়ার আগেই সেটা অংকুরে বিনষ্ট করে মানুষ বিবেকবান না হয়ে বিবেকহীন হয়ে পড়ছে।
একজন বিবেকবান মানুষ সর্বদা যুক্তিতে বিশ্বাসী হয়। এটাই মানব সভ্যতার একটি বড় এবং শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।
একজন বিবেকবান মানুষ বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য খুজে পায়, সাধারণের মাঝে অসাধারণের অনুসন্ধান করে।
তার চরিত্রে সর্বদা সংযম, সহিষ্ণুতা এবং নৈতিকতা কাজ করে।
বিবেকবান মানুষের মাঝে অসংখ্য সৎ গুনাবলির সন্ধান পাওয়া যায়।
একজন বিবেকহীন মানুষ ডোন্ট কেয়ার এবং স্বেচ্ছাচারিপরায়ন হয়ে থাকে। তার সামনে হাজারো ভালো কথা বললেও সে অসহিষ্ণু এবং উগ্র-মেজাজে তা প্রত্যাখান করে। এখান থেকে সমস্যা শুরু হয়। এ সমস্যার সমাধান কি?
একজন বিবেকহীন মানুষ মনুষ্য সমাজে গলায় বিধে থাকা মাছের-কাঁটার মত। তাদেরকে উপর-নিচ কোথাও টানা যায় না।
এখানে একটি বিষয়ে পরিষ্কার জ্ঞান থাকা দরকার যে, সমাজে কিছু লোক আছে যারা মাকাল ফলের মত। যারা দেখতে বিবেকবান। কিন্তু, আবরনের নিচে খুব খারাপ অবস্থা। এরা সবচাইতে বেশি ক্ষতিকারক। এরা কপট-সাধু সেজে বাঁশ দেয়। এদের থেকে ১০০ মাইল দূরে থাকা বাঞ্চনীয়। তা না হলে লক্ষ মাইল বেগে ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের লোক সমাজের সর্বত্রই দেখা যায়।
বিবেক এমনই এক জিনিস, যেটা সৎচিন্তা এবং সৃজনশীলতার প্রতিক। এটার উপর সভ্যতার অগ্রগতি নির্ভর করে।
এজন্য বিবেকসম্পন্ন মানুষকে একটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়। কারন, তারা বিবেক তাড়িত হয়ে দেশের কল্যান সাধনে এগিয়ে আসে। এ ধরনের মানুষ ব্যক্তি চিন্তার উর্ধে। কিন্তু, সমাজে এ ধরনের লোক খুব খুবই কম পাওয়া যায়।
মানুষ মারা যায়। কিন্তু, তার কৃতকর্ম তাকে বাচিয়ে রাখে। ভালো কাজ করলে সত্য এবং সুন্দরের প্রতিক, আর খারাপ কাজ করলে ধ্বংস এবং বিভৎসতার প্রতিকরুপে মনুষের মাঝে বেচে থাকে। আর যারা দুটোর কোনটাই না তারা বিলিন হয়ে যায় সভ্যতার অতল গহ্বরে।
কাজেই, আমাদের উচিত নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা।