আমি এ কথাগুলো আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমি এগুলোর সম্মুখিন হয়েছিলাম।
আপনার আশেপাশে এ ধরনের লোক যদি থাকে তাহলে বুঝতে পারবেন, কি জিনিস!
এরা সাধারনত জোকের মত হয়। আষ্টে-পিষ্টে জড়িয়ে থাকে চ্যাঙো জোকের মত।
আপনার কোন সমস্যায় সিদ্ধান্ত দিতে এরা সর্বদা সিদ্ধহস্ত। আর ঐ সিদ্ধান্ত যদি আপনি না মানেন তো আপনার জন্য চরম অপমান অপেক্ষা করতেছে। এরা বেশিরভাগ সময় উপযাচক হয়ে কথা বলে।
এরা ধর্মকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে। লেফাফা দুরস্ত। ভিতরটা খারাপ হলেও বাইরে পুরোই মাকাল ফলের মত অসম্ভব সুন্দর।
সব কথায় এরা থিওরি দেয়। মোটামুটি এরা সর্বক্ষণের বিরক্তি। কিন্তু, একবার এদের প্যাচের জালে আটকা পড়লে রেহায় নাই। জিলাপির সাড়ে তিন প্যাচ।
ধরুন, আপনার পড়তে ভালো লাগে। এখন আপনি পড়ছেন। সে আপনাকে বলবে কি পড়ছেন?
যদি বাংলা পড়েন। তাহলে সে বলবে আপনার জন্য ইংরেজি গুরুত্বপূর্ন। কেননা, ইংরেজী আন্তর্জাতিক ভাষা। আপনি ইংরেজী বাদ দিয়ে বাংলা পড়ছেন!
আর যদি বাংলা পড়েন। তাহলে বলবে, ভাই মাতৃভাষা বাদ দিয়ে বিদেশী ভাষার চর্চা করছেন!
এটা পড়েন, ওটা বাদ দিয়ে ঐটা পড়েন! হিজিবিজি অবস্থা করে দেবে আপনার পড়ার।
আসল কথা, আপনাকে পড়তে না দিয়ে পেইনের ভিতরে রাখাই তার উদ্দেশ্য। এরা অন্যের ভালো জীবনেও সহ্য করতে পারে না। বাজে ক্যারেক্টার। নিজের স্বার্থে যাতা করতে পারে।
মানুষের দূর্বল পয়েন্ট এদের তার্গেট। চরম খারাপ এবং বাজে ভাবে মানুষের দূর্বলাতাকে ব্যবহার করতে সিদ্ধহস্ত।
মানুষকে কিভাবে পেইনে রাখা যায় সেব্যাপারে এদের গুরু মানা যায়। যদিও বিষয়টা চরম বাজে কাজ।
একবার এদের পেইনের আওতায় পড়ে গেলে আপনি হাফ পাগলও হয় যেতে পারেন।
আপনার পড়ার সময় সে শিশ দিতে থাকবে। নতুবা দাত দিয়ে, মুখ দিয়ে শব্দ করতে থাকবে। অনিষ্ঠতার গুরু। আপনার সাথে পেরে না উঠলে নিজেকে সাথে সাথে মূর্খ অভিধায় ভূষিত করবে। পরে আপনার কাছে ঐটার জন্য জবাবদিহি চাইবে।
আপনার কাজের সময় ডেকে ডেকে গল্প করবে। আপনার অনিচ্ছা সত্ত্বেও। আর আপনি যদি হাবাগোবা টাইপের লোক হন তাহলেতো কোন কথায় নেই। আপনি পুরোপুরি ফেঁসে গেছেন।
এদের সবচাইতে বাজে রুপ হল, এরা যেটা মানে না সেটা মানুষকে করতে দেয়না, যদি পারে। আর সব সময় নিজের মতের দিকে টানতে ব্যস্ত থাকে। এদের কাছে অন্যের মতামতের গুরুত্ব কম। মানুষের ব্যক্তিস্বধীনতায় চরম হস্তক্ষেপ করে।
এধরনের লোক অভাব থাকলে আপনাকে মানসিকভাবে অভাবী করে ফেলবে। আর টাকা হলে তার ঠ্যালাই টিকে থাকাই দায় হয়ে যাবে। শিক্ষিত সমাজের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তাদেরকে বলে জ্ঞানপাপী।
এদের যে ভালো গুণ নেই তা নয়। কিন্তু, তা ধরাছোয়ার বাইরেই থাকে। সীমিত। হিসাব করতে মাইক্রোস্কোপের দরকার পড়তে পারে।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।