এত কষ্ট করে পড়া লেখা করার পরও কেন চাকরী হয় না?
প্রশ্নটা সবার। আসল রহস্য কোথায়? খুজে পাওয়া দুষ্কর!
আসলে আমাদের জানা উচিত যে, চাকরীর জন্য আলাদা করে প্রচুর পড়ালেখা করা লাগে এবং এটা প্রতিযোগিতায় ভরা।
পড়ালেখা করে চাকরী হয় না। যতসব, ফালতু কথা! আসলেই, পড়ালেখা করলেই জ্ঞানী হওয়া যায় না। শিক্ষা এবং জ্ঞানের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য বিদ্যমান। পড়া=শিক্ষা, উপলব্ধি=জ্ঞান।
না জেনে, বুঝে পড়ালেখার দোষারোপ করাটা মহাপাপ। কেননা, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এটার দ্বারা পড়ালেখার প্রতি নিরুৎসাহিত হবে এবং পড়ালেখার প্রতি তাদের মনে বিরুপ ধারণার সৃষ্টি হবে। দয়া করে বিরত হোন, এহেন নিকৃষ্ট কাজ থেকে।
পড়ালেখা এবং জীবিকা দুটো দু'রকম জিনিস। পড়ালেখার মূল্যতো শুধু চাকরীর মধ্যে নিহিত নয়। পড়ালেখার মূল্যতো জীবনের সর্বত্র।
পড়ালেখা করলে যে চাকরী হবে এমন কোন কথা নেই।
চাকরীর পড়ার কথা বললে অনেকে তিন নম্বর (অজুহাত) হাত বাহির করে দেয়। বিভিন্ন বিষয়কে দোষারোপ করে। দেশে চাকরী নেই, ঘুষ, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনীতি প্রভৃতি।
আরে ভাই, ২০০ লোক নিয়োগ দিলে ২০০ লোকই তো নিয়োগ পায় নাকি?
নিজের কি সমস্যা আছে সেটা খুজে বাহির কর। অন্যকে দোষারোপ করে কোন লাভ নেই। নিজে যোগ্যতা তৈরি কর, ধৈর্য ধরে লেগে থাক, সিস্টেমের অনুসরণ কর, নিজের কোয়ালিটি ইনশিয়োর কর। চাকরী তুমি পাবেই!
প্রত্যেক ধর্মেই শিক্ষার প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। কেননা, প্রত্যেক ধর্মেরই ধর্মীয়গ্রন্থ রয়েছে। শিক্ষা না থাকলে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করতে পারবে না। আর ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ না করতে পারলে ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারবে না। তখন ধর্মের ভেতর কুসংস্কার বাসা বাঁধবে। সমাজে দেখা দেবে নানান জটিলতা। ধর্মের নামে অ-ধর্মীয় কার্যকলাপ চলবে। কিছু মানুষ এটার সুযোগ নিবে। ধর্ম ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হবে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন। জ্ঞানের মূল্য অপার।
"শিক্ষা মানুষকে সচেতন করে"। এটা সর্বজনীন কথা।
সমাজে কোন কুসংস্কার থাকলে সেগুলো আপন মনে বিদায় নেয়, যদি শিক্ষা থাকে। এজন্যইতো শেরে বাংলা একে ফজলুল হক সব সময় সর্বজনীন শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতেন এবং তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটান। যখনই মানুষের ভিতর শিক্ষার জাগরণ ঘটল, তখনি ভারতবর্ষে মুক্তি সংগ্রামের ডাক পড়ল।
তাবৎ, পৃথিবীর ইতিহাসে শিক্ষিত জাতিকে কখনো দমিয়ে রাখা যায়নি। এটা ঐতিহাসিক সত্য।
সর্বশেষে, শ্রদ্ধেয় লেখক প্রমথ চৌধুরীর একটি কথা দিয়ে শেষ করতে চায় "সুশিক্ষিত লোক মাত্র স্বশিক্ষিত"। আর এখন পড়ালেখা করা আগের তুলনায় অনেক সহজ। তথ্য-উপাত্ত পাওয়াও সহজ। জানার পরিধি আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি। google করলে সব হাতে। 'ইন্টারনেট হাতে, তো দুনিয়া সাথে'।
আসুন আমরা বেশি বেশি করে পড়ি। জ্ঞান অর্জন করে সুখী সুন্দর জীবন গড়ি।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।