সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছোট লেখা

(লেখাগুলো আমার বিভিন্ন সময়ে অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা।)

০১. কর্ম মানুষকে কখনো ঠকায় না। আপনার বর্তমানকে আপনি যেখানে যেভাবে ব্যয় করছেন ভবিষ্যতে ঠিক তেমনই ফল পাবেন।
০২. প্রত্যেকটা জিনিস ব্যবহারের কিছু নিয়ম-নীতি থাকে। আর এ নিয়ম-নীতি বহির্ভূত কাজ করলে সমস্যা হয়।
০৩. বাস্তবতা বিবর্জিত জ্ঞান মূল্যহীন।
০৪. সমাজে কিছু লোক বাস করে। যারা মনুষ্য সমাজে বাস করে। কিন্তু, অসামাজিক। সমাজবিচ্যুত।
০৫. আমাদের জানার পরিধি যত কম, আমাদের সন্দেহ প্রবনতা তত বেশি। আপনার জানার পরিধি যত বেশি হবে, আপনার কাছে যেকোন বিষয় স্বচ্ছ কাঁচের মত দেখাবে।
০৬. আমরা অজানার পেছনে ছুটি। এটাতে সমস্যা নাই। কিন্তু, অতি অজানার পেছনে ছোটা মহাভুল। পরবর্তী জীবনে এর জন্য খেসারত গুনতে হয়।
০৭. জীবন একটাই। তাকে সুন্দর করে যাপন করুন।
০৮. মানুষের জীবন কত বিচিত্র!
০৯. আসলে আমাদের সমস্যা হল, আমরা কর্মের আগেই ফল প্রাপ্তির আশা করি। প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মাঝে যে ফাঁক তৈরি হয় সেখানেই হতাশা গেড়ে বসে।
১০. আমরা মানুষ একে অন্যের পরিপূরক, প্রভু নয়।
১১. মরীচিকার পিছে ছুটে লাভ হয় না। মরিচিকা ধরা যায় না, ছোয়া যায় না। চোখের ভ্রম মাত্র।
১২. আবেগ ক্ষনস্থায়ী, বাস্তবতা চিরস্থায়ী।
১৩. এই সমাজে কিছু বাজে চরিত্র ছিল, আছে এবং থাকবে।
১৪. আপনি আপনার সময়ে বাস করুন।
১৫. জীবনের শেষপ্রান্তে অবশিষ্ট কিছু স্মৃতি।
১৬. কে কোন ধ্যানে আছে কিছু বলার নাই। এ জন্যই কাউকে এককভাবে ভালো বা খারাপ বলারও উপায় নাই।
১৭. জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকবে। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়েই ভালো কিছু করতে হয়।
১৮. পৃথিবীর একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষ। কেননা, সে চিন্তা করতে পারে এবং চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে।
১৯. আপনি জীবনে অনেক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু, আপনার আচার-আচরণ, কথাবার্তা অ-মানুষের মত। তাহলে, আপনি ভালো মানুষ নয়। হয়তো কিছু ভালো কাজ করেছেন, এই। আবার, একজন খারাপ মানুষের সাথে আপনার ব্যবহার যদি তদ্রুপ হয়, তাহলেও আপনি ভালো মানুষ হতে পারলেন না!
২০. আসলে বয়স হলে সবাই বুঝতে পারে সব খেল। কিন্তু, মানুষ, সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র প্রভৃতির চাপে অনেকে অনেক কিছুই বলতে পারে না। হায়রে পৃথিবী! হায়রে আমার স্বাধীনতা!
২১. সমাজে কিছু  লোক আছে যারা ছোটদেরকে দিয়ে অযাচিতভাবে কাজ করিয়ে নেয়, দূর্বলতার সুযোগে। কাজ শেষে ছুড়ে ফেলে দেয়। (দেখেছি)
২২. একজন মানুষের আসল পরিচয় ফুটে ওঠে তার কথাবার্তা এবং তার আচার-আচরণে।
২৩. শৈশব গেল কৈশোর গেল, যৌবন যাবে, একসময় নিজেও যাবো হারিয়ে।।
২৪. জীবনকে জীবনের জায়গা থেকে দেখতে হবে। অন্যকিছু ভাবলে ভুল হবে।
২৫. সময়গুলো খুব দ্রুত পার হয়ে গেল। এক সময় ভাবতাম কবে বড় হবো, আর এখন মনে হয় শৈশব ও কৈশোর যদি আবার ফিরে পেতাম।
২৬. আবেগ দিয়ে ভালোবাসা হয়। বাস্তবতা দিয়ে ভালোবাসা জয় করতে হয়।
২৭. বিশ্বাস ছিলো, আছে এবং থাকবে। এটা চিরন্তন।
২৮. এক সময় পড়েছিলাম, পলিগামি আর মনোগামি। মানে-একগামিতা আর বহুগামিতা। বিয়ে বলেন আর প্রেম দুটোর ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। মানুষের দুটো বৈশিষ্ট্য- এনিম্যালিটি আর হিউম্যানিটি। মানে-পশুত্ববোধ আর মনুষ্যত্ববোধ। মানুষের ভেতরে যখন এনিম্যালিটি কাজ করে তখন সে বহুগামি হয় যায়। কেননা, মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ বাদে পৃথিবীর সকল প্রাণীর মধ্যে বহুগামিতা পরিলক্ষিত হয়।
২৯. মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির পিতামাতার বড় সমস্যা হলো-তারা সন্তানদের মোটেও বোঝেনা বা বোঝার চেষ্টাই করে না। সমস্যা হলে দিকনির্দেশনা না দিয়ে বকঝকা করে। হিতেবিপরীত। এজন্য সন্তানেরা বিপথগামী হয়ে যেতে থাকে বা জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে। তাদের আরো একটি সমস্যা হলো দোষারোপ করা। যেটা মানসিকভাবে প্রচন্ড আঘাত করে। প্রত্যেকটা মানুষের মানসিক বিকাশটা অত্যন্ত জরুরি। অল্প বয়স থেকে যদি নানা চাপাচাপির মধ্যে বেড়ে উঠতে থাকে তাহলে স্বাভাবিক বিকাশে বাঁধা পড়ে। এতে করে তারা খুব সহজে বিপথে চলে যেতে থাকে, জীবনে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে। কারণ, এ সময়টাতে এসকল পিতামাতা সন্তানকে প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দেয়। তারা মনে করে দায়িত্ব শেষ। আসলে কি তাই?
৩০. যতই আমরা মিথ্যা বলি না কেন, সত্য প্রকাশ পাবেই। আসলে যাচাই বাছাই না করে কাউকে বিশ্বাস করতে নেই। অন্ধবিশ্বাস ক্ষতি ডেকে আনে। মোহ ভঙ্গ হতে সময় লাগে না। তখন শুধু কষ্টের গ্লানি বয়ে বেড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। জীবন একটাই, যদি কখনো জীবন নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় তাহলে জীবন আর জীবনের যায়গায় থাকে না। হয়ে যায় অন্য কিছু। জীবন নিয়ে যদি কোন ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাহলে আপনি চলে যেতে পারেন অন্ধকার জগতে; এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। বাস্তবে আপনি যেটা দেখছেন, এটা হয়তোবা কিছুই না। এর অন্তরালে রয়েছে মাকাল ফল সদৃশ।
৩১. সব কিছুরই ভার্জিনিটি থাকে, ভার্জিনিটি নষ্ট হয়ে গেলে, তা হয়ে যায় সেকন্ডহ্যান্ড।।
৩২. নিজের ভালোত্ব বজায় রাখার জন্য, নিজেকে সামলাতে হয়, বিবেকটাকে কাজে লাগাতে হয়, উচিত-অনুচিত নিয়ে ভাবতে হয়। আর খারাপের জন্য, নিজের নিয়ন্ত্রন প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দিয়ে স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়ায় যথেষ্ট।

৩৩. পৃথিবীর অন্য সব জাতির মধ্যে আকার-আকৃতিগত মিল থাকলেও বাঙ্গালি জাতির মধ্যে পারস্পারিক কোন মিল নাই।
৩৪. পৃথিবীতে মানুষ বড়ই অসহায়। আপনি যদি নিজে সচেতন না হোন, তাহলে এক সময় সবাই আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। এটাই এই বিচিত্র পৃথিবীর নিয়ম। আমরা সবাই চিন্তা করতে পারি। এটাই আমাদের মানুষ হতে সাহায্য করে। আপনি যদি চিন্তা করেন। তাহলে, আপনি কিছু না হোক নিজেকে জানতে পারবেন, চিনতে পারবেন। মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা হল সে চিন্তা করতে পারে। কিন্তু, তার এই স্বাভাবিক চিন্তাকে যদি একটু সমন্বিতভাবে করা যায় তাহলে সব কিছু সুন্দর হয়ে উঠত। বলাই বাহুল্য! আমরা মানুষ। দুটো জিনিস আমাদেরকে মানুষ হতে সাহায্য করে। প্রথমত, চিন্তা করার ক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, এটার প্রয়োগ করার ক্ষমতা।
৩৫. খুজছি তোমায় জীবন ধরে। তবুও কেন জানি খুজে পেলাম না তোমায়। হে প্রিয়তমেষু, তোমাকে কোথায় গেলে খুজে পায়? বলে দাও আমায়। জীবনের বাঁকে বাঁকে তোমায় খুজে ফিরি, হে প্রিয়তমেষু। গোধুলির ন্যায় আলো-আধারি হয়ে রয়ে গেলে। ধরা তবু দিলে না। পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। তবুও, দেখা পায় না তোমায়। তুমি কি শুনতে পাও?
৩৬. বিবেক এমনি এক জিনিস যার ব্যবহার সবাই জানে না। অল্প সংখ্যক মানুষ এর ব্যবহার করে মানুষ হয়ে ওঠে। অন্যরা এটার ব্যবহার না জানার কারনে প্রাণীই রয়ে যায়। বিবেকই মানুষকে মানুষ হতে সাহায্য করে। আর এটার অ-ব্যবহার, অপ-ব্যবহার মানুষকে জন্তু-জানোয়ারে পরিনত করে।
৩৭. আপনি যদি নতুনের সাথে খাপ খাইয়ে না নিতে পারেন। তাহলে আপনি নিশ্চিত পিছিয়ে পড়বেন। এটা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। যারা যত তাড়াতাড়ি নিজেদের নতুনের পথে ধাবিত করতে পারবে তারা তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উৎকষর্তা এত বেশি যে, আপনি যদি এটা আগেভাগে গ্রহন করতে না পারেন তাহলে এটা নিশ্চিত আপনি দাড়িয়ে থেকেও পিছিয়ে পড়বেন।
৩৮. জীবন কি জিনিস। আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না। প্রচলিত কিছু ছন্দহীন ধরাবাঁধা নিয়মের বেড়াজালে পড়ে জীবনের মানে খোঁজার ফুরসতই থাকে না। পৃথিবীর সবচাইতে বড় জ্ঞান নিজেকে চিনতে পারা, নিজেকে বুঝতে শেখা। বেশিরভাগ মানুষ টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতের পিছে ছুটতে গিয়ে নিজেকে দেখার, জানার, বোঝার সময় পায় না।
৩৯. যদি কারো দোষ ধরতে যাই বা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে চাই, তাহলে নিজের দোষ-ত্রুটির কথাগুলো যেন আগে ভাবি।
৪০. পৃথিবীতে সবাই (সব মানুষই) রাজনীতিবিদ। নিজের জন্য সবাই রাজনীতি করে।
৪১. নিজের মতাদর্শে অন্যকে পরিচালিত করার জন্য মানুষ সদা তৎপর থাকে। মিথ্যা বলে হলেও অনেক সময় কাজটি করে মানুষ। আবার দেখা যায়, অনেক সময় চাপাচাপির ঘটনা ঘটে। এর জন্য সমাজে বিশৃংখলা দেখা দেয়।
৪২. ব্যক্তিস্বার্থ একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যদি এটি অন্যায়ভাবে হাসিল করা হয়। সেটা চরম খারাপ জিনিস। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার জন্য মানুষ পৃথিবীর চরমতম খারাপ কাজটি করতেও কসুর/দ্বিধা করে না।
৪৩. অন্যের মতাদর্শে পরিচালিত না হয়ে, নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী চলাই শ্রেয়।
৪৪. যার সঙ্গে আপনি বসবাস করবেন মানুষটির সম্পর্কে ভাল ধারনা নিয়ে নিন। যদি দেখেন, আপনি চিপায় পড়ে গেছেন বা লোকটা খালি কলসি তাহলে সঙ্গ ত্যাগ করুন অথবা অন্যত্র বসবাসের চেষ্টা করুন। মানুষের স্বাভাবিক বিকাশটা অত্যন্ত জরুরি।
৪৫. অন্যকে বোকা ভাবা সহজ। কিন্তু, নিজেকে বোকা বানানো অতি সহজ।
৪৬. প্রত্যেক পিতাই হয়তো চান সন্তান তার অসমাপ্ত কাজ ও স্বপ্নকে এগিয়ে নেবে। মৃত্যুর পরও তিনি সন্তানের মাঝে নিজেকে দেখতে চান।
৪৭. মানবিক দৃষ্টিকোন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা যখন মানুষের ভেতর থেকে উঠে যায় তখন মানুষের ভেতর নানান ধরনের খারাপ বৈশিষ্ট জেকে বসে।
৪৮. মানুষ স্বভাবতই একে অন্যের সমালোচক।
৪৯. সম্পর্ক জিনিসটা সদা গতিশীল ও পরিবর্তনশীল।
৫০. পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।