যে সকল ছোট ভাই ও বোনেরা এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে Admission দিবে এবং যারা অপেক্ষায় আছে আগামীতে Admission দেয়ার জন্য, তাদের জন্য রইলো কিছু পরামর্শ।
সময়টা খুবই প্রতিযোগিতাপূর্ন। কাজেই নিজেকে একটু এগিয়ে না রাখলে, পিছিয়ে পড়াটা স্বাভাবিক। আর বর্তমান সময়ে যে অবস্থা চলছে, তাতে করে "দাড়িয়ে থেকেই মানুষ একে-অন্যের থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে"। আপনাকে একটু অন্যদের থেকে ভিন্ন হতে হবে। তানাহলে, আপনার দ্বারা অন্যদের তুলনায় ভাল কিছু করা সম্ভব হবে না।
যারা এবারই Admission দিবে, তাদের জন্য সময়টা যথাযথ ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ রইল। কারন, সব মিলিয়ে সময় মাত্র ৪-৫ মাস। এর ভেতরেই পুরো সিলেবাস শেষ করতে হবে।
অন্যের কথায় কান না দিয়ে, নিজের মত করে পড়ালেখা শুরু করে দিতে হবে। এই সময়টাতে মানুষ পরামর্শের ঝাপি খুলে বসে। শেষে এরকম অবস্থা হয় যে, কারটা শুনি! কাজেই নিজের মত করে পড়তে হবে। কারন, বাঙালি একটু পরামর্শ প্রিয় জাতি (নিতে নয়, দিতে)।
কে কি পারে না পারে, এসব ভেবে কিছু হবে না। নিজেরটা ঠিক রাখতে হবে। যারা বেশি জানে, পারে তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। এমনও ঘটেছে কোচিংয়ে যে ছেলে বা মেয়েটা সব সময় ফাস্ট হত সে কোথাও চান্স পায়নি। পেছনের বেঞ্চে বসা ছাত্র আচমকা চান্স পেয়ে গেছে। আসলেই কি আচমকা? কাজেই, এগুলো ভেবে হতাশ হবার কিছু নেই। পড়তে হবে, এর বিকল্প কিছু নেই।
রেজাল্ট নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই! গোল্ডেন পাওয়া ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি, এটা নিত্য ঘটনা। আসল কথা হল, শর্ত অনুযায়ী রেজাল্ট থাকলে হল। অত-শত না ভেবে পড়া শুরু করে দেয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ।
আবার অনেকেই ভাবে, গ্রামের স্কুল-কলেজে পড়েছি, আমিতো মাদ্রাসার ছাত্র, আমার কি চান্স হবে। এ ধরনের হীনমন্যতায় ভোগার কিছু নেই। "কাওকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। কারণ, সবাই যার যার মত।"
কোচিংয়ের বিষয়টা আপেক্ষিক। কোচিং না করেও আমি প্রথম ২০ জনের মধ্যে স্থান পেয়েছি। শুধু বাড়ি বসে পড়েছিলাম। সব কথার এক কথা যেখানে যে অবস্থায় থাকি পড়তে হবে। নিজে না পড়লে কোচিং পড়া গিলাতে পারবে না। শিট, লেকচার আর কিছু পরামর্শে কোচিং শেষ। পড়াটা নিজেকেই সামলাতে হবে।
যাদের চাপ না থাকলে পড়তে ইচ্ছা হয় না তাদের কোচিংয়ে যাওয়ায় ভালো। তবে, এটাই সত্য না পড়লে, চান্স না পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯৯ শতাংশ। আমার এই বারবার পড়তে বলার কচকচানি শুনতে ভাল না লাগলেও, এটাই সত্য।
আর যারা Admission দেব কি না দেব? এ রকম উভয়-সংকটে! তাদের বলব, ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দিতে পারে।
যারা 1st বা 2nd year এবং সামনে Admission দেয়ার অপেক্ষায় তাদের বলব আগে থেকেই সচেতন হওয়ার জন্য। যত দিন যাচ্ছে প্রতিযোগিতা ততই বেড়ে চলেছে। কাজেই, আগেভাগে চিন্তা ও কাজের সমন্বয় করতে হবে। নিচে উল্লেখিত বই গুলো ক্লাসের বইয়ের পাশাপাশি পড়া যেতে পারে।
এবার আসি কি পড়তে হবে সে বিষয়েঃ
সর্বপ্রথম কাজ হল প্রশ্ন বুঝা। কোথায় কিভাবে প্রশ্ন আসে সেটা। এর জন্য প্রশ্নভিত্তিক কিছু বই পাওয়া যায় বাজারে। ভাল দেখে যে কোন একটা কিনে পড়লেই হবে।
০১. বাংলাঃ বাংলায় সাধারনত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের Admission-এ ভাষা ও সাহিত্য এ দুই যায়গা থেকে প্রশ্ন হয়ে থাকে। এর জন্য যে বইগুলো কাজে দিবে তাহল:
* ১১-১২ শ্রেনীর বাংলা সাহিত্য
* ৯ম-১০ম শ্রেনীর বাংলা ব্যাকরণ
* Professor's MCQ Review বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ( সর্বশেষ সংস্করন)
* বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ( সর্বশেষ সংস্করন)
* বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান ( সর্বশেষ সংস্করন)
০২. English: ইংলিশে ভাল করার জন্য এ বইগুলো কাজে দিবেঃ
* Admission এর জন্য আলাদা করে লেখা কিছু ইংলিশ বই পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্য থেকে যাচাই করে যেকোন একটি কিনে পড়লে বুঝা যাবে কি পড়া দরকার।
* ১১-১২ শ্রেনীর ইংলিশ সাহিত্যের বই ও গ্রামার
* Professor's MCQ Review English Language & Literature
* Samsad English-Bengali Dictionary ( Dictionary হিসেবে এবং সর্বশেষ use করা শব্দের সংযুক্তি যথেষ্ট সহায়ক)
* Compititive Exam (যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এটি যথেষ্ট সহায়ক)
০৩. সাধারন জ্ঞানঃ সাধারন জ্ঞান, খুবই অসাধারন! শেষ বলে কোন কথা নেই! তবুও পরিক্ষার জন্যতো আর সব পড়া সম্ভব নয়। আর বিশেষ করে এত অল্প সময়ে। সাধারন জ্ঞানে ভাল করার জন্য এ বইগুলো যথেষ্ট সহায়তা করবে:
* Professor's MCQ Review বাংলাদেশ বিষয়াবলি
* Professor's MCQ Review আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
* কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স
* নলেজ পাওয়ার ( সাধারন জ্ঞান ভিত্তিক সাজেশন ও মডেল টেস্ট, পরীক্ষার ১/২ মাস আগে পাওয়া যায় বাজারে)
এ বইগুলো আপনাকে শুধুমাত্র পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। বই গুলো কিনে পড়তে হবে এবং যত বেশি পারা যায় প্রশ্ন সলভ করতে হবে। কারণ, পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকে, গাদাচুক্তি পড়া দেয়া থাকে না।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।